ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া থেকে ফের আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনবে ভারত। মোট মিলিয়ে পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ কিনবে নয়া দিল্লি। যার মধ্যে ২৮৮ টি অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপানাস্ত্র কিনতে চলেছে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক।
রাশিয়া থেকে ২৮৮টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ ব্যাপক হারে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই অভিযানে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফলে বিদ্যমান মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়। সেই ঘাটতি পূরণ এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই নতুন করে ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্রয়প্রক্রিয়া ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এস-৪০০ একটি অত্যাধুনিক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহু দূর থেকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। একাধিক পাল্লার ইন্টারসেপ্টর একসঙ্গে ব্যবহারের সুবিধা থাকায় এটি একটি বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলে। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, বড় শহর এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।
এর পাশাপাশি বৈঠকে স্বল্প-পাল্লার ‘প্যান্টসির’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সংগ্রহের প্রস্তাবেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা স্বল্প দূরত্বে ড্রোন, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। দীর্ঘ ও স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে আকাশপথে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে উন্নত ও বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিএসি-র এই অনুমোদন ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
