ওঙ্কার ডেস্ক : ভারত-চিনের দীর্ঘ দিনের সীমান্ত বিরোধকে ‘জটিল’ বলে সরাসরি স্বীকার করল বেজিং। সোমবার চিন স্পষ্ট জানাল, সীমান্ত নির্ধারণের বিষয়টি সহজ নয়, তবে এই সমস্যা সমাধানে ভারত-চিন উভয় পক্ষকেই দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এগোতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে স্থিতি ও শান্তি বজায় রাখতে চিন যে ইচ্ছুক, সে কথাও তুলে ধরেছে তারা। চিনের এমনই বার্তা দিল সম্প্রতি অনুষ্টিত কুইংদাওয়ে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে।
উল্লেখ্য বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দং জুনের। বৈঠকে সীমান্তে পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন রাজনাথ সিং। তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু কথায় নয়, সীমান্তে মাটির উপর বাস্তবায়নই বিশ্বাসের প্রমাণ।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, সীমান্ত বিরোধের সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। বহু দশকের জটিলতা রয়েছে, যা একদিনে মেটানো যাবে না। তবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার জন্য যে বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সেটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। মাও নিং বলেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চিন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে ভারত-চিন যৌথভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের পর দু’দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এর মধ্যে ২৩তম বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। লাদাখ সংঘর্ষের পর এটিই ছিল এই স্তরের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। সেই বৈঠকে সীমান্তে বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তির রূপায়ণ নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক মনোভাব দেখায়। ফলে সীমান্তে সেনা টহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের গবাদি পশু চারণের বিষয়টি আবার চালু হয়। কুইংদাওয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সীমান্ত ইস্যুর বাইরেও পহেলগামের জঙ্গি হামলা এবং পাকিস্তানে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ তোলেন বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ সন্ত্রাসে বিরুদ্ধে মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে এই প্রসঙ্গ তোলা হয়।
চিন অবশ্য ঠিক কবে নাগাদ সীমান্ত নির্ধারণের দিকে এগোবে, সে নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমার কথা বলেনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, তাঁরা আশা করেন ভারতও সমান মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে এবং নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতি রক্ষার পথে চলবে।
