ওঙ্কার ডেস্ক: দেশ জুড়ে যে পরীক্ষা নির্ধারণ করে হাজারো ডাক্তারি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ। সেই পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই পরীক্ষা আজব সাফাই দিল পরীক্ষা গ্রহণ কারি সংস্থা এন টি এ। তাদের বক্তব্য, ‘’ ‘গোটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনাই ঘটেনি, স্রেফ কিছু প্রশ্ন পরীক্ষার আগে বাইরে চলে এসেছিল!’ এনটিএ-র এমন যুক্তি শুনে স্বভাবতই তাজ্জব রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা এই প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কীভাবে ফাঁস হল কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ- সেই জট ক্রমে খুলছে। সিবিআই জানাচ্ছে, নিট-ইউজি পরীক্ষার ঠিক আগের সপ্তাহে, এপ্রিলের শেষ দিকে, কুলকার্নি লাতুর ও পুনে- দুই জায়গারই ছাত্রছাত্রীদের জড়ো করেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমার, যিনি ১৪ মে গ্রেফতার হন। কুলকার্নি নিজের পুনের বাড়িতেই ‘বিশেষ কোচিং ক্লাস’ চালু করেন। সেখানে তিনি ছাত্রদের হাতে প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর, এমনকি সঠিক উত্তর পর্যন্ত লিখিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, সেই নোটবইয়ে লেখা প্রশ্নগুলি হুবহু মিলেছে ৩ মে-র নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে। সিবিআই সূত্রের দাবি, এই প্রশ্নফাঁসের বিনিময়ে কয়েক লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল ছাত্রদের কাছ থেকে। বহু মধ্যস্থতাকারীকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছিল গোপন নেটওয়ার্ক, যেখানে বইয়ের মতো সাজানো হয়েছিল প্রশ্নব্যাঙ্ক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর কুলকার্নিকে পুনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি লাতুরের বাসিন্দা হলেও গত কয়েক বছর ধরে পুনেতে পড়াতেন।
কেবল কুলকার্নিই নন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নথি, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট উদ্ধার করেছে সিবিআই। এগুলোর ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের গতিবিধি, যোগাযোগ এবং টাকা লেনদেনের ধরন জানতে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্তকারিদের দাবি, এই তদন্তের ফলে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল নেটওয়ার্ক অনেকটাই প্রকাশ্যে এসেছে। আরও বড় র্যা কেট সামনে আসতে পারে আগামী দিনে।