ওঙ্কার ডেস্ক : পহেলগামের রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার পর পাল্টা জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ যে পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, এবার সেটি খোদ ইসলামাবাদ স্বীকার করে নিল। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার তীব্রতায় চাপে পড়েই তাঁদের পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানেই সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় নয়াদিল্লির কাছে।
সাক্ষাৎকারে দার জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি এবং পাঞ্জাব প্রদেশের শরকোটে অবস্থিত পাক বায়ুসেনার রফিকি ঘাঁটিতে প্রত্যক্ষ হামলা চালায়। তাঁর ভাষায়, “রাত ২টো ৩০ নাগাদ ভারতীয় বাহিনী হামলা চালায়। বিমানঘাঁটিগুলি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে পাকিস্তানের পক্ষে সামরিক পাল্টা জবাব তখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
দার আরও জানান, হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ফোন করেন সৌদি প্রিন্স, যিনি জানিয়ে দেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-র সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সম্পর্কে তিনি অবগত। সৌদি প্রিন্স প্রস্তাব দেন, তিনি কি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। দার সম্মতি জানালে কিছু সময়ের মধ্যে সৌদি প্রিন্স ফের ফোন করে জানান, তিনি জয়শঙ্করকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি পাকিস্তানকে কূটনৈতিক দিক থেকে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, এর আগে ইসলামাবাদ বরাবরই ভারতের অভিযানের গুরুত্বকে অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু এবার নিজেদের মুখ থেকেই উঠে এল অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের বাস্তব ক্ষতির চিত্র।
প্রসঙ্গত, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি কৌশলগত প্রত্যাঘাত, যা পহেলগামের জঙ্গি হামলায় ভারতীয় পর্যটকদের নিহত হবার পর শুরু হয়েছিল। এই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ১০০-রও বেশি সন্ত্রাসবাদী প্রাণ হারিয়েছিল এই হামলায়। ধ্বংস করা হয়েছিল একাধিক অস্ত্র মজুত কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ শিবির। ভারতের এই কড়া পদক্ষেপের জবাবে পাক সেনাও পাল্টা হামলার চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তান থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য তথা জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাতকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়। কিন্তু ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে আটকে যায় সেই আক্রমণ। তুরস্ক নির্মিত ড্রোন ও চিনের মিসাইল ব্যবহার সত্ত্বেও পাকিস্তান সেই হামলা কার্যত ব্যর্থ হয়। চার দিন ধরে চলা এই সীমান্ত সংঘাতের শেষে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এবং এখন জানা যায় সেই বিরতির জন্য প্রথম আবেদন এসেছিল পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই, এবং তার পিছনে ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সফল অভিযান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকারোক্তি শুধু পাকিস্তানের কৌশলগত দুর্বলতাই নয়, ভারতের প্রতিরক্ষায় একটি বড় সাফল্য হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি ভারতের প্রতিরক্ষায় আগ্রাসী নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে যা আঘাতের বদলে প্রতিঘাত দিতে জানে, এবং সেই প্রতিঘাত এতটাই তীব্র হতে পারে যে, শত্রু পক্ষ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
