ওঙ্কার ডেস্ক: ট্রাম্পের শুল্কনীতির হুমকির প্রেক্ষাপটেই রাইটার্সের একটি প্রতিবেদন সামনে এসেছে যাতে দাবি করা হয়েছে রাশিয়া থেকে প্রায় এক সপ্তাহ যাবত কোনো রকম অপরিশোধিত তেল কেনেনি কোনো ভারতীয় তেল রিফাইনিং সংস্থা। আর এই বিবৃতির জেরেই আবার আন্তর্জাতিক বাজারে শুরু হয়েছে চর্চা। ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে কারন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
২০২২ এ ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পর রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লাগানো হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারত ছিল রাশিয়ার অপরশোধিত খনিজ তেলের ক্রেতা। রাশিয়ার মোট তেল উৎপাদনের ৩৫% ভারতে রফতানি করত, যা সমসাময়িক ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে আর্থিক সাহায্য করত। সেই তেল কেনাই আপাতত বন্ধ করেছে ভারতের তেল পরিশোধক সংস্থা গুলি।
রাইটার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত এক সপ্তাহে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রো কেমিক্যালস মত তেল পরিশোধক সংস্থা গুলি রাশিয়া থেকে কোনো রকম তেল আমদানি করেনি। এই সংস্থা গুলি মূলত ভারতের ওয়েল রিফাইনিং কোম্পানি গুলির মধ্যে অন্যতম। এই পদক্ষেপের পর ভারতের খনিজ তেল ব্যবহারকারি সংস্থা এবং সাধারন মানুষের উপর কি প্রভাব ফেলবে সেনিয়ে চিন্তা বাড়ছে। অবশ্য এ বিষয়ে উক্ত সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকার থেকে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
রাশিয়া থেকে তেল না কেনার নেপথ্যে আমেরিকার টারিফ আইনের কথা পুরোপুরি ভাবে উরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত জুলাই মাসে মাঋকন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেয় রাশিয়ার সঙ্গে কোনো বানিজ্য চুক্তি স্বাক্ষোর করলে সেই দেশের উপর চাপানো হবে ১০০ শতাংশ টারিফ। আবার জুলাই মাসের শেষে ট্রাম্প জানিয়ে দেই ভারতের উপর ২৫% শুল্ক চাপাচ্ছে আমেরিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়া থেকে তেল বা অস্ত্র কিনলে পরবর্তী কালে ভারতকে আরও বড় আন্তর্জাতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এই কথা মাথায় রেখেই আপাতত তেল কেনা স্থগিত রেখেছে ভারত।
রাশিয়া থেকে তেল না কেনার কারনে বিকল্প পথ ইতিমধ্যেই খুঁজে নিয়েছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার খনিজ তেল সমৃদ্ধ দেশ থেকে তেল আমদানি করছে ভারত। এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকা থেকেও তেল কিনতে তৎপর ভারত। সমসাময়িক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বানিজ্য চুক্তি চালিয়ে যাওয়া ভারতের জন্য লাভজনক হচ্ছেনা। এই বিকল্প সিধান্তে হয়ত ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সুবিধাই হবে মনে মনে করছেন অনেকে।
