ওঙ্কার ডেস্ক : ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল এই এক দশকে ভারতের পর্যটন জগতের মানচিত্র পাল্টে গিয়েছে। আর এই রূপান্তরের মূলে রয়েছেন মোদী সরকার, এমনটা বললে খুব ভুল হবে না। দেশজুড়ে শুধুই পর্যটনের প্রসার নয়, আধ্যাত্মিক জাগরণ, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক যুগান্তকারী অধ্যায় লিখেছে ভারত। কাশী, অযোধ্যা, কেদারনাথ, বোধগয়া কিংবা সারনাথ এই নামগুলিকে আর শুধুমাত্র তীর্থস্থান বলে ব্যাখ্যা করা যায় না এগুলি হয়ে উঠেছে বানিজ্যের এক কেন্দ্রস্থল। ২০২৪ সালে কেদারনাথে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ১৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে, যা এক দশক আগে ছিল মাত্র ৪০ হাজার। একইভাবে উজ্জ্বয়িনী ৭.৩২ কোটি এবং কাশী ১১ কোটি দর্শনার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে।
গত বছর বিশ্বের নজর কেড়েছে অযোধ্যার রামলালা মন্দির। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১১ কোটিরও বেশি ভক্ত সেখানে পা রেখেছেন। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভে ৬৫ কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা আজও কতটা জীবন্ত ও শক্তিশালী। ‘প্রসাদ’ প্রকল্পে উন্নত মানের ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন ও অবকাঠামো সহ ১০০টি তীর্থস্থানকে পুনরায় গঠন করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালে ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা পৌঁছায় ২৫০ কোটিতে।
পর্যটন এখন আর শুধুই বেড়ানোর উপলক্ষ নয় এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা ও ঐতিহ্যের এক পুনরুদ্ধারের যাত্রা। এই যাত্রায় ভারত শুধু দেশবাসীকেই নয়, বিশ্বের মানুষকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঘুরে দেখার জন্য, অনুভব করার জন্য এবং সংযোগ স্থাপন করার জন্য। সূত্রের খবর ২০১৪-২২ সময়কালে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ এসেছে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু ২০২৩ সালে বিদেশী মুদ্রা আয় হয়েছে ২.৩১ লক্ষ কোটি, যা ২৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এই খাত ২০২৩-২৪ সালে মোট ৮৪.৬৩ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে আরও মজবুত করেছে।
ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া ২.০–র হাত ধরে ভারত পর্যটনে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছে। ঋষিকেশে যোগব্যায়াম, কেরালার আয়ুর্বেদ, কচ্ছের কারুশিল্প বা উত্তর-পূর্বের উপজাতি উৎসব পর্যটকদের টেনে এনেছে দেশের কোণায় কোণায়। ‘অ্যাডপ্ট এ হেরিটেজ’ প্রকল্পে ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলিকে কর্পোরেট পরিকাঠামো দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘উড়ান’ প্রকল্পে দেশের দুর্গম এলাকাগুলিকেও বিমান পরিবহণের আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল পর্যটন মিশনের আওতায় তৈরি হচ্ছে একত্রিত প্ল্যাটফর্ম যেখানে বুকিং থেকে ট্রিপ প্ল্যানিং সবই এক জায়গায়। একসময় অবহেলিত উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন আজ দেশের গর্ব। অরুণাচল, মেঘালয়, সিকিমের মতো রাজ্যে পর্যটকদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজ’ প্রকল্পে কিবিথু, মানার প্রভৃতি সীমান্তবর্তী গ্রাম পর্যটন মানচিত্রে স্থান পেয়েছে যেখানে দেশপ্রেম, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি মিলেমিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
২০২৩ সালে ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সি শুধুমাত্র কূটনৈতিক ইভেন্ট ছিল না এটি হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক মহোৎসব। ৬০ টিরও বেশি শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিতে ভারতের স্থানীয় শিল্প, খাবার ও ঐতিহ্য বিদেশি প্রতিনিধিদের মুগ্ধ করে তোলে। দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে খাজুরাহো, মহাবলিপুরম, উদয়পুর, অযোধ্যা হয়ে উঠেছে বিশ্বের চোখে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রতিচ্ছবি। আজকের ভারত শুধুমাত্র ভ্রমণের নয়, অনুভবের স্থান। এখানে আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি মিলে গঠিত হচ্ছে নতুন পর্যটন নবজাগরণ।
