ওঙ্কার ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার পর ভারতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও দ্বৈত অবদান চুক্তি সই হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠকের পর এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলি সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠকের পর আলোচনার সফল পরিণতি ঘটল।
দ্বৈত অবদান চুক্তির ফলে এখন থেকে দুই দেশের মধ্যে কর্মরত ব্যক্তি বা সংস্থাকে আর আলাদাভাবে উভয় দেশে সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ডে অবদান রাখতে হবে না। ফলে কর্মীদের বেতন থেকে দ্বিগুণ হারে অর্থ কর্তনের প্রথা বন্ধ হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের হাজার হাজার পেশাজীবী ও প্রবাসী কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান আরও সহজ হবে। কমবে শুল্ক ও আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত জটিলতা। এতে ভারতীয় রফতানিকার ব্রিটেনের বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবেন। বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি, ঔষধ, বস্ত্রশিল্প ও কৃষিপণ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই চুক্তি এখন ভারতের মন্ত্রিসভা ও ব্রিটেনের সংসদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। এর আগে ভারত মরিশাস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি সই করেছে। এবার লক্ষ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের দাবি, এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিপথ দেবে। বহুজাতিক বিনিয়োগকারীরা আরও আগ্রহী হবেন, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও। ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে।
