ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী ২২ মে, বৃহস্পতিবার দেশের ১৮টি রাজ্যে ১০৩ টি অমৃত ভারত স্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন রাজস্থানের বিকানীর থেকে এই স্টেশনিগুলির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘিরে প্রশাসনের মধ্যে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রেল স্টেশনগুলিকে পর্যায়ক্রমে আরও উন্নত করে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায়। এক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেকটি স্টেশনের জন্য সুনির্দিষ্ট বিশদ পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং কাজ হয়েছে ধাপে ধাপে।
অমৃত ভারত স্টেশনের লক্ষ্য কী?
এই প্রকল্পটির লক্ষ্য হল স্টেশনগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। এর মধ্যে রয়েছে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, ওয়েটিং হল, শৌচালয়, প্ল্যাটফর্ম এবং ছাদ আরও ভালোভাবে সাজিয়ে তোলা। প্রয়োজন মতো লিফট, চলমান সিঁড়ি এবং নিখরচায় ওয়াই-ফাই পরিষেবারও ব্যবস্থা রয়েছে। যাত্রীদের সহায়তায় তথ্য ও দিশানির্দেশ ব্যবস্থাপনাকেও আরও উন্নত করে তোলা হয়েছে। কয়েকটি স্টেশনে থাকবে একজিকিউটিভ লাউঞ্জ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বৈঠকের জন্য আলাদা জায়গা। ‘এক স্টেশন এক পণ্য’ প্রকল্পের আওতায় বিপণীতে বিক্রির জন্য সাজানো থাকবে স্থানীয় নানা পণ্য। স্টেশনগুলিকে আরও পরিবেশবান্ধব এবং আকর্ষণীয় করে তোলার যাবতীয় চেষ্টা হবে।
এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় স্টেশনগুলি সাজিয়ে তুলতে স্থানীয় সংস্কৃতি, নির্মাণ রীতি এবং ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া। যেমন আমেদাবাদ স্টেশনের ক্ষেত্রে মধেরা সূর্য মন্দির, দ্বারকা স্টেশনের ক্ষেত্রে দ্বারকাধীশ মন্দির। গুরুগ্রাম স্টেশনে থাকবে আইটি সংস্কৃতির ছোঁয়া, ওড়িশার বালেশ্বর স্টেশন সেজে উঠবে ভগবান জগন্নাথ মন্দিরের আদলে। তামিলনাড়ির কুম্ভকনম স্টেশনের ভবনটি গড়ে তোলা হবে চোল স্থাপত্যের অনুকরণে।
অমৃত ভারত প্রকল্পে স্টেশনবাড়িগুলিকে আরও উন্নত করে তোলা হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে স্টেশনের সংযোগ নিবিড় করা অন্যতম লক্ষ্য এই প্রকল্পের। স্টেশনে যাতায়াতের জন্য বাস এবং মেট্রো পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিশেষ ভাবে সক্ষমদের সুবিধার্থে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ। থাকছে পরিবেশবান্ধব নানা ব্যবস্থাপনা এবং রেললাইনের আওয়াজ কমানোর উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে স্টেশনগুলিকে শহরের প্রাণবন্ত কেন্দ্র করে তোলা হবে – যেখানে শুধু যাতায়াত নয়, অন্য ধরণের কাজকর্মও হবে দ্রুত ও মসৃণ গতিতে।
উন্নয়নশীল দেশের চাহিদা অনুযায়ী ভারতীয় রেল পরিকাঠামোকে সাজিয়ে তুলতে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশবান্ধব প্রণালী এবং উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পাখির চোখ করে রেল স্টেশন সম্পর্কে মানুষের ধারণাকেই বদলে দিতে চাইছে সরকার। শুধু মাত্র ট্রেন ধরার জায়গা নয়, রেল স্টেশনগুলিকে গড়ে তোলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট শহরের প্রাণময়তার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ পরিসর হিসেবে।
