ওঙ্কার ডেস্ক: পেট্রোল ডিজেলের পর এবার বাড়তে চলেছে বিমানের জ্বালানীর দাম। জানা গিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে এয়ার টার্বাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করায় আগামী দিনে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এর ফলে কার্গো বিমানের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাবে প্যাসেঞ্জার বিমানের ভাড়া। এর ফলে আগামী দিনে বৃদ্ধি পাবে জিনিসপত্রের দাম। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বিমানের জ্বালানির বাজারেও। গত কয়েক মাস ধরেই এটিএফের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার জুন মাসের শুরুতে ‘প্রাইস স্টেবিলাইজেশন’ ব্যবস্থা চালু করে এবং ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়। তবে সেই ব্যবস্থার মধ্যেই এবার তেল বিপণন সংস্থাগুলি এটিএফের দাম ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ডোমেস্টিক বিমানের খরচ আগের তুলনায় অনেক গুন বেড়ে গেছেন। এর ফলে, দিনের পর দিন ধরে বেড়েই চলেছে প্লেন ভাড়ার দাম। সূত্রের খবর, আগামী তিন বছর এই মূল্য কাঠামো বহাল থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান পরিচালনার মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই নির্ভর করে জ্বালানির খরচের উপর। ফলে এটিএফের দাম বাড়ার অর্থ বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। সেই অতিরিক্ত খরচের বড় অংশই শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উপর চাপানো হতে পারে। অর্থাৎ আগামী দিনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই বিমানের টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে।
এরই মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব বিমান চলাচলেও পড়েছে। একাধিক বিমান সংস্থা তাদের উড়ান সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের দুই বৃহত্তম বিমান সংস্থা Air India এবং IndiGo ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রুটে পরিষেবা কমিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ডোমেস্টিক উড়ান প্রায় ২২ শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিগোও ৫ থেকে ৭ শতাংশ উড়ান কমানোর পথে হাঁটছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার এই দুই সংস্থার দখলে। ফলে উড়ানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন টিকিটের দাম বাড়বে, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, বিমানের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং উড়ান সংখ্যা হ্রাস—এই দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় দেশের বিমানযাত্রীদের আগামী দিনে বেশি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে যে আগামী দিনে দেশের সব জায়গায় বাড়তে বাড়তে আমদানিকৃত বেশ কিছু জিনিসের দাম। যদিও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্চ তে চলা যুদ্ধআবহ নিয়ে।