ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘদিনের আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বিরোধের সমাধানে নতুন করে উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা ও মিজোরাম সরকার। আগামী সপ্তাহে আগরতলায় দুই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে ১০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজার পরিকল্পনা রয়েছে।
ত্রিপুরা সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আলোচনায় বসবেন। যদিও সেই বৈঠকের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন মানিক সাহা। গত ৪ জুন শিলংয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব পরিষদের ৭৩তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ফাঁকে লালদুহোমার সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর আলোচনা হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে দুই রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্তরী মানিক সাহা, যাতে পরবর্তী পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীও সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
উল্লেখ্য, এনইসি-র ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। ত্রিপুরার দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। রাজ্যটির বাংলাদেশের সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা ত্রিপুরার মোট সীমান্তের প্রায় ৮৪ শতাংশ। এছাড়া অসমের সঙ্গে ৫৩ কিলোমিটার এবং মিজোরামের সঙ্গে ১০৯ কিলোমিটার আন্তঃরাজ্য সীমান্ত রয়েছে। ত্রিপুরা ও মিজোরামের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু বছরের পুরনো। বিতর্কিত এলাকায় কোনও একটি রাজ্য উন্নয়নমূলক বা নির্মাণকাজ শুরু করলেই অন্য রাজ্য আপত্তি জানায়। এর জেরে অতীতেও একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফুলডুংসেই গ্রামটি ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যই নিজেদের সীমার মধ্যে বলে দাবি করে। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।