ওঙ্কার ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার রামপচোদাভারমের এক সরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মুররাম শিবানী আত্মহত্যা করেছে। মাত্র তিন দিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘মেগা প্যারেন্ট-টিচার মিটিং (এমপিটিএম) ৪.০’-এ একই মঞ্চে বসে বক্তব্য রেখে সকলের নজর কেড়েছিল সে। এই আকস্মিক ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার ইরলাপল্লি গ্রামের দিদার বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে শিবানী। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে সে নিজের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছে, তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারায় সে দুঃখিত। তবে কী কারণে সে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, শিবানীর বাবা-মা কোরুকোন্ডার একটি হোটেলে কাজ করেন। পড়াশোনার সুবিধার জন্য সে দিদার বাড়িতে থেকে রামপচোদাভারম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল। পড়াশোনায় মেধাবী এবং স্কুলের সক্রিয় ছাত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিল শিবানী।
গত ২৪ জুলাই আয়োজিত এমপিটিএম ৪.০ অনুষ্ঠানে শিবানী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানিয়েছিল। সে বলেছিল, কঠোর পরিশ্রম করে আগামী বছরে ‘শাইনিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জিততে চায়। তার বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু তাকে নিজের পাশে বসতে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ কথাও বলেন। সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি শিবানীর মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রামপচোদাভারমের অনুষ্ঠানে শিবানীর উদ্দীপনা, পড়াশোনা নিয়ে তার স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা এখনও তাঁর মনে রয়েছে। এমন সম্ভাবনাময় এক আদিবাসী কিশোরীর এভাবে জীবন শেষ করে দেওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।