ওঙ্কার ডেস্ক: ভয়াবহ! নারকীয়! নৃশংস! মর্মান্তিক! উচ্চবর্ণের কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের মাসুল দিতে হল জীবন দিয়ে। ভিন জাতের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এক দলিত যুবককে পিটিয়ে, তাঁর নখ উপড়ে, পায়ে লোহার পেরেক গেঁথে এবং যৌনাঙ্গে আঘাত করে খুন করা হল। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়ওয়াল জেলায়। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেছেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম কেতন লাল। ১৮ বছর বয়স তাঁর। প্রতাপনগর ব্লকের দেভাল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। রবিবার রাতে খোলগড় গ্রামে কিশোরীর ডাকে সাড়া দিয়ে তার গ্রামে যান। সেই সময় মেয়েটির পরিবারের লোকজন কেতন এবং তাঁর বন্ধু দিবাকর ডিমরিকে মারধর করে। দিবাকর প্রাণে বেঁচে গেলেও এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন। কিন্তু কেতন নির্মমভাবে অত্যাচারের শিকার হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মারা যান। কেতনের বাবা ধনপাল লালের দাবি, হত্যার আগে তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়। মঙ্গলবার বাউয়ারারি জেলা হাসপাতালের বাইরে ধনপাল লাল অভিযোগ করেন, ‘নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল, পায়ে লোহার পেরেক গেঁথে দেওয়া হয়েছিল এবং যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল।’ এ ছাড়া তাঁর পিঠ, বুক ও হাত-পা জুড়ে গভীর কালশিটে দাগ ছিল।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত ছয় মাস ধরে খোলগড় গ্রামের এক নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে কেতনের যোগাযোগ ছিল। রবিবার রাত ১১টা নাগাদ মেয়েটি তাঁকে ফোন করে গ্রামে আসতে বলে। এরপর কেতন তার বন্ধু দিবাকর ডিমরির সঙ্গে খোলগড়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর মেয়েটির পরিবারের লোকজন তাদেরকে একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে। পরদিন সকালে মেয়েটির বাবা কেতনের বাবা ধনপাল লালকে খবর দেন। তাঁর ছেলেকে নিয়ে যেতে বলেন। গ্রামে পৌঁছে ধনপাল দেখেন, কেতনের গোটা শরীর রক্তাক্ত। দ্রুত চাউন্ড লাম্বগাঁওয়ের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ধনপাল লাল বলেন, ‘যতদিন না দোষীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততদিন আমি ছেলের মৃতদেহ নেব না—তাতে চার দিন বা দশ দিন যা-ই সময় লাগুক।’ ইতিমধ্যে পুলিশ এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(২)(ভি) ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তেহরি গাড়ওয়ালের সিনিয়র পুলিশ সুপার শ্বেতা চৌবে জানান, প্রধান দুই সন্দেহভাজন—মেয়েটির বাবা যশবীর সিং এবং দাদু বিদ্যা সিং—কে গ্রেফতার করা হয়েছে।