ওঙ্কার ডেস্ক: লোকসভা ভোট এবং একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন কারচুপি করেছে বিরোধী শিবিরের এই অভিযোগ বৃহস্পতিবার আরও জোরালো করলেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-সহ কয়েকটি রাজ্যের নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে তিনি সরাসরি ভোট চুরির অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। যদিও জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাহুলের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও শুক্রবার-শনিবারের মধ্যে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক, এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার। শুধু সমর্থনই নয়, তিনি এমন এক বিস্ফোরক দাবি করলেন যা বিরোধী ও শাসক দুই শিবিরকেই নাড়া দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। কর্নাটকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রের মহাদেবপুরা বিধানসভায় এক লক্ষেরও বেশি ভোট চুরি হয়েছে। রাহুলের দাবি, কংগ্রেস এখানে পেয়েছিল ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ভোট, বিজেপি পেয়েছিল ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার। ভোট ব্যবধান মাত্র ৩২ হাজারের কাছাকাছি। অথচ ওই মহাদেবপুরা আসনে ১ লক্ষ ২৫০টি ভুয়ো ভোটার তৈরি করে বিজেপিকে জেতানো হয়েছে বলেঅভিযোগকরেছেনতিনি।
হরিয়ানায় ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের ভোট অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। রাহুল বলেন, ‘‘এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। ভোটের সততা নষ্ট হয়ে গেলে নির্বাচন কেবল প্রহসন হয়ে দাঁড়ায়।’’ রাহুলের বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকেরা তাঁকে প্রমাণ-সহ হলফনামা জমা দিতে বলেন। পরে নির্বাচন কমিশনও রাহুলকে সতর্ক করে চিঠি পাঠায়।
শনিবার নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরদ পওয়ার জানান, রাহুলের বক্তব্য ভিত্তিহীন নয়, বরং তার কাছে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ‘‘বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এর স্পষ্ট জবাব চায়।’’ বলেন তিনি। এরপরই মারাঠা রাজনীতির এই পোড়খাওয়া নেতা সামনে আনেন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর কাছে দু’জন লোক আসে। তারা আশ্বাস দেয়, ২৮৮ আসনের মধ্যে তাঁকে ১৬০ আসনে জেতানো হবে তাঁকে।পওয়ার বলেন, ‘‘আমি তাঁদের গুরুত্ব দিইনি এবং বিষয়টি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বলি। আমরা দু’জনেই সিদ্ধান্ত নিই, এর মধ্যে না জড়ানোই ভালো।’’ তিনি আরও জানান, রাহুলের দিল্লির সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং রাহুল এই বিষয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেছেন।
শরদ পওয়ারের এই বক্তব্য শুধু রাহুলের অভিযোগকে জোরালো করল না, বরং শাসক বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল। বিরোধীদের দাবি, এই অভিযোগগুলি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, বিরোধীরা জনসমর্থন হারানোর ভয়ে অযথা নির্বাচন কমিশনকে কালিমালিপ্ত করছে। কমিশনও জানিয়েছে, রাহুলের অভিযোগ ‘‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’’।
