ওঙ্কার ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের দাচিগাম জাতীয় উদ্যানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে খতম হল তিন জঙ্গি। সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানে সোমবার সকালে এই সাফল্য এসেছে। সেনা সূত্রে খবর, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলার মূলচক্রী সুলেমান ওরফে হাসিম মুসা। যদিও সেনা এখনও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি। ‘অপারেশন মহাদেব’নামে এই অভিযান শুরু হয় সোমবার সকালে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত দাচিগাম জঙ্গলে। সেনাবাহিনীর চিনার কোর তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে প্রথমে জানায়, অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিদের ধরার চেষ্টা চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযানে তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন লস্কর-এ-তৈয়বার অন্যতম শীর্ষ নেতা মুসা, যিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য এবং পহেলগাঁও হামলার পরিকল্পনাকারী। ওই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ২৬ জনের, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। অন্য দুই নিহত জঙ্গির নাম আবু হামজা এবং ইয়াসির। তারাও পাকিস্তানের নাগরিক বলে গোয়েন্দাদের দাবি। সোমবার ভোরে গুলির শব্দ এবং সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর সকাল ১১টা নাগাদ শুরু হয় অভিযান। সেনার গুলিতে তিনজনই নিহত হয়।
দাচিগামের বিস্তীর্ণ অরণ্য এলাকাজুড়ে এখনও চলছে সেনার তল্লাশি। সম্ভাব্য অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংঘর্ষস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে, ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা। সেনা সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে এনআইএ-র হাতে ধৃত দুই সন্দেহভাজনের সামনে নিহত জঙ্গিদের ছবি দেখানো হবে, যাতে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
উত্তর থেকে দক্ষিণে জঙ্গি অনুপ্রবেশ, নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে অন্তত ১৫০ জন জঙ্গি ভারতে ঢুকে পড়েছে। তাদের অনেকেই দাচিগাম, পহেলগাঁও, অনন্তনাগসহ দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। সেই কারণেই লাগাতার চলছে ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মতো অভিযান। এই অভিযানে সেনার প্রাথমিক সাফল্য সন্ত্রাসদমন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।
‘অপারেশন মহাদেব’-এর পর জঙ্গীদের লুকানো আস্তানা খুঁজে বের করেছেন সেনা বাহিনী। গভীর জঙ্গলের ভিতরে একাধীক গুপ্ত জঙ্গী ঘাঁটি সামনে এসেছে, যেগুলি থেকে ভবিষতে বড়সড় হালমার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে অনুমান।সুত্র অনুযায়ী সেনার সঙ্গে গোলাগুলির পর জঙ্গীদের আস্তানা থেকে কার্বাইন, একে-৪৭ এবং রাইফেল গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। সিআরপিএফ, ভারতীয় সেনা ও কাশ্মীর পুলিশ এখন বাকি জঙ্গীদের ঘাঁটি এবং আস্তানা খুঁজতে তৎপর।
