ওঙ্কার ডেস্ক: রেললাইনে পাথর ছোড়ার ঘটনা রুখতে নতুন প্রযুক্তির পথে হাঁটল ভারতীয় রেল। যাত্রী ও ট্রেনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবার সৌরশক্তি চালিত নজরদারি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত যেসব এলাকায় বারবার চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই সব রেলপথকে চিহ্নিত করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ইতিমধ্যেই এই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে খড়্গপুর ডিভিশনে একাধিকবার চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু ট্রেনের কাচ ভেঙেছে, আতঙ্কে পড়েছেন যাত্রীরা, যদিও বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর মেলেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা বা অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে বহু জায়গায় সিসিটিভি বসানো সম্ভব হচ্ছিল না। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবেই সৌরশক্তি চালিত ক্যামেরার কথা ভাবা হয়েছে।
এই ক্যামেরাগুলি সম্পূর্ণ সৌরশক্তিতে চলে এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই প্রায় দশটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে হাওড়া-খড়্গপুর শাখার টিকিয়াপাড়া থেকে উলুবেড়িয়া-বাগনান এলাকা, খড়্গপুর ইয়ার্ড সংলগ্ন অঞ্চল, খড়্গপুর-টাটানগর শাখার ঘাটশিলা ও গালুডিহের মাঝামাঝি অংশ এবং ওড়িশার বালাসোর সংলগ্ন কিছু এলাকায়। এই ক্যামেরার মাধ্যমে রেলপথের দু’পাশের বিস্তৃত অঞ্চল নজরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স জানিয়েছে, এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কয়েকটি পাথর ছোড়ার ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে তদন্তে গতি এসেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, শুধু নজরদারিই নয়, এই ক্যামেরাগুলি দুষ্কৃতীদের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে।
রেল প্রশাসন আরও জানিয়েছে, রেল আইনে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে, যাতে এই ধরনের বিপজ্জনক কাজের পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবগত হন। রেল সূত্রের দাবি, পর্যায়ক্রমে আরও বেশি সংখ্যক সৌরশক্তি চালিত ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যায় এবং রেল সম্পত্তির ক্ষতি রোখা সম্ভব হয়।
