স্পোর্টস ডেস্ক: প্রাথমিক পর্বে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এ বার বদলায় সেই রেকর্ড ভেঙে, অ্যালিসা হিলির দলকে বিদায় করে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত। অবিশ্বাস্য রান তাড়া করে অসম্ভবকেও সম্ভব করল ভারতের মেয়েরা। সৌজন্যে অবশ্যই জেমিমা রডরিগেজের অপরাজিত শতরানের মহামূল্যবান ইনিংস। ম্যাচের পর জেমি বলে দিলেন নিজের অনুভূতির কথা। অবিশ্বাস্য ইনিংসের পর তিনি জানালেন, বাদ পড়ার পর প্রতি রাতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সেমিফাইনালে সাত বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার করা ৩৩৮ রান ৯ বল ও ৫ উইকেটে হাতে রেখে জিতেছে হরমনপ্রীত কৌরের দল। ফিবি লিচফিল্ডের দারুণ সেঞ্চুরির জবাবে অপরাজিত ১২৭ রানে দুর্দান্ত ইনিংসে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন জেমিমা রডরিগেজ। ট্রফির লড়াইয়ে ভারত মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার। জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে-এমন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৩ রানেই ওপেনার শেফালি বর্মাকে হারায় ভারত। ২৯ রানে ফিরে যান দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাও। তবে ভারতকে লড়াইয়ে রাখেন জেমিমা রডরিগেজ ও হরমনপ্রীত। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তোলেন ১৬৭ রান। ১০ চার ও ২ ছয়ে ৮৮ বলে অধিনায়ক হরমনপ্রীত ৮৯ রান করে আউট হয়ে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন জেমিমা। শেষের দিকে দিপ্তি (২৪), রিচা ঘোষ (২৬) ও আমানজ্যোতকে (১৫*) নিয়ে উচ্ছ্বাস- উৎসবে মাতেন জেমিমা। ভারত ৪৮.৩ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ৩৪১ রান। জেমিমা শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১৪ চারে ১২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
জেমি বলেন, ‘বাবা, মা, কোচ, যাঁরা আমার উপর বিশ্বাস, আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। খুব কঠিন একটা মাস যাচ্ছে। ম্যাচটা এখনও যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। এখনও যেন খেলছি!’ সাধারণত পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেন। কিন্তু এই ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। আগে থেকে জানতেন? জেমি বলেন, ‘জানতামই না আমাকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হবে। স্নান করতে যাওয়ার সময় বলেছিলাম, আমাকে বলো, কখন নামতে হবে। ব্যাট করতে নামার ৫ মিনিট আগে বলা হয়, তোমাকে তিন নম্বরে যেতে হবে, নিজের জন্য নয়, ভারতের জন্য ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম। এর আগেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হেরেছি। এটা যে কোনও মূল্যে জিততে চেয়েছিলাম। আমার হাফসেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরির জন্য তৃপ্ত নই, দেশকে জেতাতে পেরেছি, এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে!’

