ওঙ্কার ডেস্ক: ইন্দোরের ভগীরথপুরা ও সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ডায়রিয়া ও বমি-জনিত অসুস্থতার প্রকৃত কারণ হিসেবে দূষিত পানীয় জলকেই চিহ্নিত করল পরীক্ষাগারের রিপোর্ট। কয়েক দিন ধরে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এবং মৃত্যুর পর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে জল পরীক্ষা করা হলে তাতে গুরুতর মাত্রার জীবাণু দূষণের প্রমাণ মেলে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পানীয় জলের পাইপলাইনে ফাটল ও লিকেজের মাধ্যমে নিকাশির জল মিশে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জল থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং জল ঘোলা হয়ে আসছিল। অভিযোগ, একাধিকবার বাসিন্দারা পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে একটি পুলিশ ফাঁড়ির কাছে থাকা শৌচাগারের নিচ দিয়ে যাওয়া পানীয় জলের পাইপলাইনে ফাটল ধরায় নিকাশির জল সরাসরি লাইনে ঢুকে পড়ে। সেই জলই দৈনন্দিন ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটায়।
আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র ডায়রিয়া, বমি, জ্বর ও ডিহাইড্রেশনের উপসর্গ নিয়ে শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে একাধিক রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করতে হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, যদিও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও স্থানীয় হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প হিসেবে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে পুরসভা ও জল সরবরাহ দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত জল পরীক্ষা ও পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকভাবে হলে এই ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব ছিল। দূষিত জলজনিত এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ইন্দোর শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
