ওঙ্কার ডেস্ক: চেনাব নদীর উপর বহু প্রতীক্ষিত সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে ফের সক্রিয় হচ্ছে কেন্দ্র। পরিবেশ ও অরণ্য মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে এই সপ্তাহেই আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১,৮৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্প বহু দশক ধরে পরিকল্পনার পর্যায়ে আটকে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে প্রথমবার এর প্রস্তাব উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৪ সালে প্রকল্পটি পুনরায় সামনে এলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে কার্যকর রূপ পায়নি।
এখন নতুন করে কেন্দ্র এই প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ও বন-সংক্রান্ত ছাড়পত্র দিতে আগ্রহী। তবে সেই পথ মোটেও মসৃণ নয়। কারণ আন্তর্জাতিক চুক্তির জটিলতা এই প্রকল্পকে ঘিরে রয়েছে। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পশ্চিম দিকের তিন নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব মূলত পাকিস্তানের ব্যবহারের জন্য ধার্য। ভারতের অধিকার সীমিত রাখা হয়েছে ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ ধাঁচের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে। অর্থাৎ জল জমিয়ে রাখার সুযোগ নেই, কেবল প্রবাহ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনই অনুমোদিত। ফলে প্রকল্পের নকশা ও কার্যপ্রণালী সেই শর্ত মানছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের বড় প্রকল্প শুরু করার অন্তত ছ’মাস আগে পাকিস্তানকে বিস্তারিত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। ভারত যদি সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, তা হলে ইসলামাবাদের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে।
ইতিমধ্যেই পাকিস্তান একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চেনাবের জল প্রবাহ রুদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ হলে সেটি ইন্দাস চুক্তি লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হবে। এমনকি, প্রতিবেশী দেশ এই প্রকল্পকে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেই থেমে থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে ভারতের দিক থেকে যুক্তি, জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়নও সম্ভব হবে। জলবিদ্যুৎ নির্ভর অবকাঠামো পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
চেনাব অববাহিকার ভৌগোলিক সংবেদনশীলতা, পরিবেশের ভারসাম্য, বিপুল অরণ্যভূমি ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। কেন্দ্র সরকারের তরফে আশা করা হচ্ছে, সবুজ সংকেত মিললে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পাবে। তবে পাকিস্তানের আপত্তি ও আন্তর্জাতিক চাপ যে প্রকল্পটির প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়েও সংশয় বাড়ছে।
