ওঙ্কার ডেস্ক : কৌশিকের দিনের রুটিনটা বেশ জটিল। সকালে কোনও ভাবে দুধ কনফ্লেক্স খেয়ে সেক্টর ফাইভ। সেখানে দুপুর পেরিয়ে বিকেলে খাবার কথা মনে পড়লে হয় যাদব দার দোকানে রুটি সবজি আচার। নয়তো সুইগি ভরসা। রাতের দিকে অফিস সেরে একটু ক্লাবে। সেখান থেকে রাতের ডিনার বারোটার পর। একদিন ভালো শরির ছিল, খেলাধুলাও করত। আজ মধ্যপ্রদেশ জানাচ্ছে সে দিন আর নেই। সকালে উঠে হাটতে যাওয়া হয়ে ওঠে না। দিনের পর দিন বাড়ছে ওজন। এখানেই আসে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় মেনে উপবাসের ধারণা।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মূলত কী খাবেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় কখন খাবেন, সেই সময়ের ওপর। এর জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হলো ১৬:৮—অর্থাৎ ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা এবং বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে দিনের খাবার খাওয়া। যারা সবে শুরু করছেন তারা ১২:১২ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে করা হলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু মানুষের ওজন কমাতে, মোট ক্যালোরি কনট্রোল করতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের কিছু সূচক উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কোনো জাদুকরী পদ্ধতি নয়। ফাস্টিংয়ের সময় কমিয়ে দিয়ে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মিষ্টি বা উচ্চ-ক্যালোরির খাবার খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসহ সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জল খাওয়াও জরুরি।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—সবার জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই পদ্ধতি বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাছাড়াও যারা সদ্য মা হয়েছেন তারাও এই ফার্স্টিং এড়িয়ে চলুন।এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফার্স্টিং নৈব নৈব চ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কারও কারও মাথা ঘোরা, দুর্বলতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।