স্পোর্টস ডেস্ক : আর নয়। নীল সাদা জার্সিতে আর্জেন্টিনার হয়ে অবসর নিয়েই ফেললেন লিওনেল মেসি। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম বার্তায় নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি। গত ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর অগণিত অনুরাগীদের কষ্টা এটাই, আর সেই জাদু দেখা যাবে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের পর বেশ কিছুটা সময় নীরবে নিজের সঙ্গে লড়াই করেছেন মেসি। শেষ পর্যন্ত হৃদয়ে জমে থাকা কথাগুলি জানালেন সমর্থকদের। অবসরের সিদ্ধান্তের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কলমেও ধরা পড়েছে সেই আবেগ।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা পোস্টে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর এতটা সময় কেটে গিয়েছে। অনেক ভেবেচিন্তে শেষ পর্যন্ত সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্তিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। সিদ্ধান্তটা নিতে খুব কষ্ট হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়।বিশ্বাস করুন, আমি সব সময়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে, যখন আমরা সব কিছু জিতেছি, শুধু তখন নয়— তার আগেও এই জার্সির জন্য আমি সব সময় লড়াই করেছি। মাঠে নিজের সবটুকু দিয়ে দিয়েছি। আপনাদের আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আর্জেন্তাইন হওয়ার জন্য গর্বিত করে তুলতেই আমি সব সময়ে চেষ্টা করেছি।সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে আসছে। আর এই অধ্যায়টা শেষ করতে গিয়ে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং চিরকাল ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিয়েছি। দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি, আমাদের পরের প্রজন্মে দুর্দান্ত কিছু তরুণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।২০ বছর ধরে ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এখন থেকে বাইরে থেকে আপনাদেরই একজন হয়ে আর্জেন্তিনাকে সমর্থন করব।মনের মধ্যে শান্তি এবং গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে এই স্বপ্নের মুহূর্তগুলো বেঁচে থাকাটা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসি !’

মেসি জানিয়েছেন, ২১ জুন, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দুদিন পরেই এই অবসরের চিঠিটি লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেইসময় তিনি এটি প্রকাশ করেননি কারণ তখন তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। গত ৮ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় মেসির। এরপর ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ছ’টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ৬ টি বিশ্বকাপে মোট ৩৪টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন। ২০২২ সালে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা; ২২টি গোল নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে।