নিজস্ব সংবাদদাতা, ওয়াশিংটন: ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতেই দুই দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ফের এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সেই হুঁশিয়ারির জেরেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ পর্বে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সংঘাত থেমেছিল।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সতর্ক করে বলেছিলাম, তাঁরা যদি লড়াই বন্ধ না করেন, তবে আমেরিকার সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করতে পারবেন না এবং তাঁদের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।” তাঁর কথায়, এই হুমকির মুখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংঘর্ষে ইতি টানতে রাজি হন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৭ থেকে ১০ মে-র সামরিক সংঘাতে ১১টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ৭ মে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। তারপরই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিন দিনের মধ্যেই দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। তখন থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, তিনিই সংঘর্ষ থামিয়েছেন।
যদিও দিল্লি কখনওই ট্রাম্পের এই দাবি মানেনি। ২০২৫ সালের ১০ মে বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতীয় ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ করেছিল। এরপর স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সামরিক অভিযান বন্ধে সমঝোতা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী লোকসভায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিশ্বের কোনও রাষ্ট্রনেতার কথায় সংঘর্ষ থামেনি। পাকিস্তানই সংঘর্ষবিরতি চেয়েছিল, ভারত তাতে রাজি হয়।
অন্যদিকে ইসলামাবাদ অবশ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ট্রাম্পের ভূমিকা স্বীকার করেছে। ২০২৫ সালের ১০ মে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তিনি ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
অর্থাৎ, মার্কিন কূটনৈতিক যোগাযোগের তথ্য থাকলেও, ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিই সংঘর্ষবিরতির কারণ ছিল, তা প্রমাণিত নয়। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েও একই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডায় তিনি ফের বলেন, “আমি বলেছিলাম, বন্ধুরা, তোমরা যদি এমনটা করতে যাও, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে তোমরা আর ব্যবসা করতে পারবে না। আমি তোমাদের দু’জনের উপরই বিশাল শুল্ক আরোপ করব— ২৫০ শতাংশ, যাতে তোমরা কোনও ব্যবসাই করতে না পারো। আর তাতেই কাজ হয়েছিল।”