ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরানে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুরু হওয়া হামলার পর তিন দিনের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৫৫৫–এ পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে স্থানীয় সূত্রে। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রদেশে বিস্ফোরণ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন এবং আতঙ্কে ঘরছাড়া মানুষের দীর্ঘ মিছিল, কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির ছবি ফুটে উঠছে ইরানের একাধিক শহরে।
রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়। রাতভর আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ, সাইরেনের তীব্র আওয়াজ এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা গর্জনে কেঁপে ওঠে বহু এলাকা। বিভিন্ন আবাসিক এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন। বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরছেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। একাধিক প্রদেশে স্কুল, সরকারি ভবন এবং জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালগুলিতে রক্তের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, জরুরি পরিষেবা চাপে ন্যুব্জ। চিকিৎসক ও নার্সরা টানা শিফটে কাজ করছেন। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিই-এর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ও উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। দেশের শাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে।
এদিকে ইরানের তরফেও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। পারস্য উপসাগর সংলগ্ন দেশগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেবে কি না, তা নিয়ে।
জাতিসংঘ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মহল অবিলম্বে সংঘাত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা বাড়ানো হলেও ময়দানের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রতিদিন বেড়ে চলা প্রাণহানির সংখ্যা। যুদ্ধের ধোঁয়াশার মাঝেই তারা অপেক্ষা করছেন শান্তির কোনও সম্ভাব্য আলোর জন্য।
