ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের ক্ষমতার শীর্ষস্তরে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ঘনীভূত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসনের ভিতরেই এবার বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনা শুরু হয়েছে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরাঘচির ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর গুরুতর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পার্লামেন্টের স্পিকার মদম্মদ বাঘেরির কাজেও তিনি সন্তুষ্ট নন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলির চাপের মাঝে আব্বাস আরাঘচি ছিলেন অন্যতম মুখ্য কূটনৈতিক মুখ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচিত সরকারের তুলনায় ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে বেশি সমন্বয় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং সংসদের প্রভাবশালী মহলের একাংশ মনে করছে, এই অবস্থান সরকারের কূটনৈতিক নীতিকে দুর্বল করছে এবং প্রশাসনের ভিতরে দ্বৈত ক্ষমতার কাঠামো আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অভিযোগ, বিদেশমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় প্রেসিডেন্টকে সম্পূর্ণভাবে অবহিত না করেই সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। এর ফলে সরকারের অভ্যন্তরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা এবং পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে ইরানের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণে আরাঘচির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাংশের মতে, তাঁর নীতি অত্যন্ত কঠোর এবং সামরিক স্বার্থনির্ভর, যা প্রেসিডেন্টের তুলনামূলক সংস্কারপন্থী অবস্থানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচিকে সরানো হলে ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়সড় বার্তা পরিবর্তন আসবে, যা ইতিবাচক বলে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এতে বোঝা যাবে নির্বাচিত প্রশাসন কূটনীতির উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে এবং সামরিক প্রভাব কতটা সীমিত করা সম্ভব হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে তেহরানের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, আন্তর্জাতিক চাপ এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড়সড় পুনর্গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।