ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ফের সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটগণনার ক্ষেত্রে কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করা হবে সেই নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা করেছিল তৃণমূল। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ‘সরকারি কর্মচারী মানেই তিনি সরকারি কর্মচারী, তা তিনি রাজ্যের হোন বা কেন্দ্রের।‘ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে গণনাকাজে কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগে আর কোনো বাধা রইল না নির্বাচন কমিশনের।
ভোট গণনার কাজে কেন রাজ্য সরকারি কর্মী নিয়োগ করা হল প্রথমে সেই নিয়ে মামলা করা হয়েছিল হাইকোর্টে, পরবর্তী কালে সেই মামলা জায় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। বিচারপতি নরসিংহ বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের আলাদা করে দেখার মধ্যে একটি ভ্রান্তি রয়েছে। তাঁরা সকলেই সরকারি কর্মচারী। তাই এই বিভাজন কাম্য নয়।” আদালত জানিয়েছে, কমিশন চাইলে একটি টেবিলের দুই কর্মীকেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারে। এতে কোনো আইনি বা নির্বাচনী নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না। রাজ্জের শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল আদালতকে সওয়াল করেন যে, পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সিইও কেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সরিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের আনার কথা আগে জানালেন না? কোনো নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই কেন সম্ভাব্য অনিয়মের আশঙ্কা করা হচ্ছে?” পরিবর্তে আদালত জানায় “গণনা তদারককারী বা গণনা সহকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য উভয় স্তরের কর্মীই থাকতে পারেন। যখন নিয়মেই এই বিকল্প রয়েছে, তখন একে বিধি-বিরোধী বলা যায় না।” তার সঙ্গে তিনি যোগ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ই সরকারি কর্মচারী তাদেরকে আলাদা করে দেখা উচিৎ নয়।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব সার্কুলার অনুযায়ী গণনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। ভোট গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য-র প্রতি এই অনাস্থা রাজ্য সরকারের আরও অস্বস্তি আরও বাড়ালো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।