ওঙ্কার ডেস্ক: বন্ডি বিচে গুলিকান্ডের প্রেক্ষাপটে একটি দুঃসাহসিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। সেখানে দেখা গেছে, একজন রাইফেল হাতে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছেন সামনের দিকে। পিছন থেক মধ্য বয়সী একজন চুপিসারে গিয়ে প্রথমে পিছন দিক থেকে গিয়ে গলা পেচিয়ে ধরে ও পরে তার হাত থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারিকেই আঘাত করে তাঁকে নিরস্ত্র করে। আস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে শুট আউট কান্ডে এই সাহসী ব্যাক্তি হলেন বছর ৪০ এর আহমেদ আল আহমেদ। আহমেদের এই সাহসিকতার প্রশংসা করে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ‘জাতীয় হিরো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বন্ডি বিচে হামলার দুই দিন পর আহমেদ আল আহমেদকেসাহসিকতার স্বীকৃতি দিতেই হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আহমেদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ‘অস্ট্রেলিয়ার নায়ক’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এমন সাহস গোটা দেশের গর্ব।
গত ১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচ এলাকায় এক জনবহুল ইহুদিদের হানুক্কাহ অনুষ্ঠানে আচমকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে চারদিক ছুটোছুটি শুরু হলেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত, যদি না সাধারণ নাগরিক আহমেদ আল আহমেদ জীবন বাজি রেখে এগিয়ে আসতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক বন্দুকধারী যখন নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছিল, তখন আহমেদ কোনও অস্ত্র ছাড়াই তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সংঘর্ষের মধ্যেই বন্দুকটি কেড়ে নিতে সক্ষম হন। এই সময় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন এবং মারাত্মকভাবে আহত হন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ। তিনি জানান, আহমেদের এই আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতা অস্ট্রেলীয় সমাজের প্রকৃত মূল্যবোধকে তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের এমন দায়িত্ববোধ প্রমাণ করে যে মানবতা এখনও বেঁচে আছে। তিনি আহমেদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সরকার তাঁর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব রকম সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, আহমেদের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। যদিও শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও তাঁর মানসিক দৃঢ়তা অটুট। হাসপাতালেই দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আহমেদ জানান, যদি আবারও এমন পরিস্থিতি আসে, তাহলে তিনি একই কাজ করবেন। তাঁর মতে, নিরীহ মানুষের জীবন বাঁচানোই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।
এই ঘটনার পর গোটা অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আহমেদের সাহসিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজের নানা স্তর থেকে তাঁর জন্য শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা আসছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে জাতীয় নায়ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বন্ডি বিচের সেই রক্তাক্ত দিনে আহমেদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মবলিদান না থাকলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।
