নিজস্ব সংবাদদাতা: ফের ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে নেপাল। রবিবার ভোরে গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আচমকা জলস্ফীতিতে ভেসে গেল একাধিক বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু। প্রশাসনের তৎপরতায় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হলেও, এখনও পর্যন্ত চারজনের কোনও খোঁজ মিলছে না।
নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই বুড়ি গণ্ডকী নদীর জল বাড়তে শুরু করে। রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ বিকট শব্দে হড়পা বান আছড়ে পড়ে। চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং জানিয়েছেন, সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার বহু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে দুটি সেতুও, ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ। তিনি বলেন, “ভোরে হঠাৎ বন্যা চলে আসে। জিনিসপত্র বের করার সময় পাইনি। জলের শব্দ শুনেই সব ফেলে পালিয়েছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা শেরাপ গুরুং জানান, অন্ধকারে শুধু জলের গর্জন শুনতে পেয়েছেন তাঁরা। ভয়ে হোটেলে থাকা পর্যটক-সহ সকলেই বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় চলে যান। রবিবার সকাল থেকেই চারজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
গোর্খার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্রের বক্তব্য, সিউরিবাসের উপরে ভূমিধসের খবর মিলেছে, তবে নদীতে হঠাৎ জল বাড়ার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, শনিবার রাতে ধস নেমে নদীর বুকে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছিল। রবিবার ভোরে জলের চাপে সেই হ্রদের পাড় ভেঙেই হড়পা বান নামে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হেলিকপ্টার নামিয়েছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, নদীর জলস্তর এখনও ওঠানামা করছে, মাঝে মাঝেই বিপদসীমা ছাড়াচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণের জন্য হেলিকপ্টারে নজরদারি চলছে। মাইকিং করে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোর্খা, ধাদিং, চিতোয়ান জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা।
এর আগে ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানে ভেসে গিয়েছিল উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এক মাস পেরিয়েও সেই ঘটনায় বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ।