ওঙ্কার ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিদেশমন্ত্রী ছিলেন একদা ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রদ্রিগেজ ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পছন্দের ব্যক্তি তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, সেই সময় অর্থাৎ ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটগোকে প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে ৫,০০,০০০ ডলার অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। নিকোলাস মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক প্রশাসন যখন ভেনেজুয়েলার মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছিল, সেই সময় রদ্রিগেজ বিনিয়োগের দরজা খুলে দিতে পারে এমন একটি চুক্তির জন্য ঝুঁকি নেন।
প্রায় একই সময়ে, ট্রাম্পের প্রাক্তন ক্যাম্পেন ম্যানেজারকে সিটগোর লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। যদিও এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, তৎকালীন সিনেটর মার্কো রুবিওর অনুরোধে ট্রাম্প মাদুরোর বিরোধীদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তৎপর হন। বিদেশ মন্ত্রকের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্তা লি ম্যাকক্লেনি বলেন, ‘তিনি একজন আদর্শবাদী, তবে বাস্তববাদী’। ম্যাকক্লেনি একদা কারাকাসে শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘তিনি জানতেন যে ভেনেজুয়েলার ধুঁকতে থাকা তেল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মনে হচ্ছিল তিনি এই কাজটি করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।’
প্রায় এক দশক পরে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে, রদ্রিগেজের বার্তা —ভেনেজুয়েলা ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই অবস্থান ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছে। শনিবার মাদুরোকে গ্রেফতারের পর থেকে, তিনি রদ্রিগেজকে ‘সদয়’ মার্কিন অংশীদার হিসাবে প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলকে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এবং দেশের বিশাল তেল ভান্ডারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ না দিলে তাঁর প্রাক্তন বসের মতই পরিণতি হবে।
