ওঙ্কার ডেস্ক: ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের এক কাপড় কলের শ্রমিক দীপু দাসকে প্রথমে পিটিয়ে ও পরে পুড়িয়ে হত্যা করে উগ্র ইসলামপন্থীরা। সেই ঘটনায় বাংলাদেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। এমনকি ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশের দূতাবাসেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ভারতের বহু মানুষ। এই আবহে ময়মনসিংহে নিহত শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করলেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার। দীপু দাসের পরিবারের দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
দীপু দাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই এই ঘটনাকে ‘পাশবিক অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন সিআর আবরার। তিনি বলেন, এই অপরাধের কোনও অজুহাত হতে পারে না। এদিন আবরার বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীপু দাসের সন্তান, স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে। দীপুকে খুনের ঘটনা পাশবিক অপরাধ, যার কোনও অজুহাত থাকতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান ওই পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২৫ বছর বয়সী দীপু দাসকে খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে এ বিষয়ে বলা হয়, ‘অভিযোগ, রটনা বা বিশ্বাসের ভিন্নতা কখনও হিংসার অজুহাত হতে পারে না। আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।’
দীপু দাস হত্যার বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও হোক, যাঁরা ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ সম্প্রদায়ের নন, তাঁদেরও নিরাপত্তা থাকা উচিত।’
