ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একদিকে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর মতে, পারমাণবিক কর্মসূচির এই অংশই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রধান কারণ এবং ভবিষ্যতের যে কোনও চুক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি মৌলিক শর্ত হিসেবে থাকবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং প্রয়োজনে তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প জানান, যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক শর্ত মেনে চলে, তাহলে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের জন্য এটি একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই নমনীয় অবস্থানের পাশাপাশি তিনি কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। যে দেশগুলি ইরানকে সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও, অন্যদিকে চাপ সৃষ্টির কৌশলও বজায় রাখছে।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। যুদ্ধবিরতির পর আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মতপার্থক্য এখনও অটুট রয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।