ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য নীতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালত আমেরিকায় আমদানী জাত বিদেশী পন্যের উপর শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানায়, বিস্তৃত হারে আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বিরোধী গোষ্টী কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য এবং প্রেসিডেন্ট এককভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। আদালতের এই রায়ের পরেই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা।
রায় ঘোষণার মাত্র এক দিনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বৈশ্বিক আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় এবং বিকল্প বাণিজ্যিক বিধানের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণকে তিনি সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রশাসনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন শুল্ক হার অবিলম্বে কার্যকর করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য তা বলবৎ থাকবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তাদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক বৃদ্ধি পেলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়বে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হাঁটলে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে এর আগেও একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় এবং তার পরবর্তী সময়ে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
