ওঙ্কার ডেস্ক: ১৯৯৬ সালে আমেরিকাই গোটা বিশ্বে পরমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু নিজেদের বানানো নিয়ম প্রায় তিন দশক পর ভেঙ্গে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের সঙ্গে বৈঠকের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংস্থা পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমেরিকার উচিত দ্রুত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কর্মসূচী শুরু করা। আর এতেই প্রবল আলোড়ন তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। অনেকের মতে ট্রাম্প সরাসরি তৃত্বীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা বর্তমান সময়কালে দাঁড়িয়ে যথেষ্ট ভয়ের কারণ।
প্রসঙ্গত গত মাসের ৩০ তারিখেই দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান প্রদেশে চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের আগে ট্রাম্প নিজের সমাজ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল থেকে একটি বার্তা পোষ্ট করেন। যেখানে তিনি আমেরিকার সামরিক সংস্থা পেন্টাগনকে দ্রুত পরমাণু পরীক্ষার বির্দেশ দেন। তিনি তাঁর করা পোষ্টে আরও লেখেন, “বিশ্বের বাকি দেশগুলি নিজেদের পরমাণু শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। তাই আমেরিকারও উচিত নিজের জায়গা মজবুত করা”। কিন্তু অপরদিকে আমেরিকার শক্তি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এই পরীক্ষা শুধুমাত্র পরমাণু কেন্দ্রের কর্মকান্ড ঠিক করে কাজ করছে কিনা সেই সব দেখার জন্যই করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রিস রাইটের এই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যাপারটা বেশ ভালো চোখে দেখছে না আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। তাঁরা এই নির্দেশকে সরাসরি হুমকি হিসাবেই দেখছে।
মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এত পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে পৃথিবীকে ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব। চিনের সঙ্গে চলা নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে বিশ্বের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে। রাশিয়ার কাছেও বিপুল অস্ত্রভান্ডার আছে, আর চিন দ্রুতগতিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সেই সমতায় পৌঁছে যাবে।” ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া এবং চিনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের ভারসাম্যই আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রধান চাবিকাঠি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, চিনের বাড়তি প্রভাব কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ। চিনের হাতে রয়েছে বিরল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার, যা ব্যবহার করে চিন সারা বিশ্ব বাজারে একাধিপত্য বিস্তার করতে চায় বলে দাবিও করেছিলেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসলে কূটনৈতিক বার্তা। চিন ও রাশিয়ার বাড়ন্ত সামরিক শক্তির মধ্যে আমেরিকার প্রভাব বজায় রাখতেই তিনি এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বজুড়ে নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় এমন বক্তব্য যে চাপ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষত যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, তখন এই পারমাণবিক হুমকি কূটনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
