ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে অনুষ্টিত হচ্ছে সেদেশের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিই-র শেষকৃত্য। এই অনুষ্ঠানে দেশের নেতা মন্ত্রীসহ সাধারণ মানুষদের কান্নার ছবি ধরা পড়েছে। ইরানের মানুষ খামেনিই-র প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয় সমাধি প্রাঙ্গনে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতে। তিনি বলেছেন, “আমি ভাবতাম খামেনিইকে মানুষ ঘৃনা করে”। এমনকি তিনি ইরানবাসীর কান্নাকে ভুয়ো কান্নাও বলেছেন। এখানেই থেকে থাকেননি তিনি। আয়াতোল্লা আলি খামেনিই-র শেষকৃত্য চলাকালীন ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই একই জায়গায় উপস্থিত থাকায় চাইলে একটি মাত্র হামলায় তাঁদের সবাইকে হত্যা করা সম্ভব ছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কারণ ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য কাউকে না কাউকে বেঁচে থাকা প্রয়োজন।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকলেও তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “একটি মাত্র আঘাতেই সবাইকে শেষ করে দেওয়া যেত। কিন্তু আমরা তা করিনি। কারণ আলোচনা করার জন্য কেউই আর বেঁচে থাকত না।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ইরান আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী এবং সাময়িকভাবে উভয় পক্ষই নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুধু হুঁশিয়ারি নয়, খামেনেইর শেষকৃত্য নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, টেলিভিশনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে মনে করা হত ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনেইকে অপছন্দ করেন। অথচ শেষকৃত্যে মানুষের ঢল দেখে তাঁর সেই ধারণা বদলেছে। যদিও তিনি এও মন্তব্য করেন, মানুষের শোক কতটা আন্তরিক আর কতটা পরিস্থিতির চাপে, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন। যদিও ইসলাম ধর্মে মৃত্যুর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেহ কবর দেওয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে শেষকৃত্যর দিনক্ষন পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য। তেহরান-সহ একাধিক শহরে শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ সেই শোকমিছিলে অংশ নিয়েছেন। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা অনুষ্ঠান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে সমাধিস্থ করার কথা রয়েছে।