ওঙ্কার ডেস্ক: লিবিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেন দেশের প্রাক্তন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম লিবিয়ার জিন্তান শহরে নিজের বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখোশ পরা কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী হঠাৎই বাড়িতে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সাইফ আল-ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই লিবিয়ার রাজনীতিতে একটি বিতর্কিত ও আলোচিত নাম। মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হত। বিদেশে শিক্ষিত ও সংস্কারপন্থী ভাবমূর্তির জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিত ছিলেন। তবে ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি বাবার সরকারের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। সেই সময়ের সহিংস দমননীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বিদ্রোহের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক বছর বন্দি জীবন কাটাতে হয়।
মুক্তির পর তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও আইনি জটিলতা ও বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও দেশের একটি অংশে তাঁর সমর্থন ছিল, যা তাঁকে পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছিল ২০২১-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়। পরবর্তী কালে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং গদ্দাফি সেই নির্বাচন থেকে পিছিয়ে এসেছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত প্রশাসন, মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রভাব এবং ক্ষমতার টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনা ভবিষ্যতে আরও অশান্তি ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
