ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর-ই-তৈবা ও হামাসের শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে উপস্থিতির একটি ভিডিও ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে রয়েছেন হামাসের শীর্ষ নেতা নাজি জাহের এবং লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার রশিদ আলি সান্ধু। অনুষ্ঠানে নাজি জাহেরকে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বর্ধনা জানানো হয়, তাঁকে গলায় মালা পরানো হয় এবং প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতেও দেখা গিয়েছে।
খবর অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ, যে সংগঠনটির সঙ্গে লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ। ভিডিওটি কবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে না এলেও, সেখানে দুই জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের একসঙ্গে প্রকাশ্য মঞ্চে দেখা যাওয়াকে অত্যন্ত বিপদজনক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ কতটা প্রকাশ্যে এবং কতটা রাষ্ট্রের নীরব সমর্থনে চলছে। বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং রাজধানী দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া ভয়ানক বিস্ফোরণ কান্ডের আবহে হামাস নেতার পাকিস্তানে প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং লস্করের মঞ্চে তাঁর অংশগ্রহণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রতীকী সাক্ষাৎ হলেও, বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও হামাসের একাধিক নেতা পাকিস্তানে বিভিন্ন সভা ও জনসমাবেশে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই ভিডিও সামনে আসায়, দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলির পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বৈঠকে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা যৌথ কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তবু একই মঞ্চে হামাস ও লস্কর নেতাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে গভীর নজরে রাখা হচ্ছে।
