ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকা ৭৩ বছরের ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেয় তিন সদস্যের বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা করা হবে।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করছিল তাঁর পরিবার, আইনজীবী এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বিশেষ করে তাঁর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। জেলে থাকাকালীন তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার কথা সামনে এসেছিল। যদিও জেল কর্তৃপক্ষের তরফে চিকিৎসার পর তাঁর চোখের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, ইমরানের পরিবার ও দল সেই দাবিতে সন্তুষ্ট হয়নি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সরকারি জেলের চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে অন্য বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালত শুধু স্থানান্তরের নির্দেশই দেয়নি, তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথাও জানিয়েছে। ওই বোর্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বোন উজমা খানকেও তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ইমরানের চিকিৎসা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত মূল্যায়ন করে চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন বিশেষজ্ঞরা। আদালত ইমরানের সম্পূর্ণ মেডিক্যাল রেকর্ডও জমা দেওয়ার নির্দেশ
২০২৩ সালের অগস্ট থেকে জেলবন্দি ইমরান খান। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা শুরু হয়। দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সংক্রান্ত মামলা-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক আইনি মামলা হয়েছে বলে জানা যায়। ইমরান অবশ্য বরাবরই অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।