ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় বংশোদ্ভুত ২০ বছরের এক তরুণী ব্রিটেনে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সুত্রের খবর, উত্তর ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের কাছে নিজের বাড়িতে ধর্ষণ হয়েছেন ঐ তরুণী। পুলিশকে দেওয়া বয়ান অনুসারে, এক শ্বেতাঙ্গ তাঁর বারিতে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। বর্ণবিদ্বেষের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছরের তরুণীটি কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন, সেই সময় দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করে। এরপরই তারা তরুণীকে একটি নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাকে বর্ণবিদ্বেষের অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে অভিযুক্তরা তরুণীকে ‘এই দেশে তোমার স্থান নেই, ফিরে যাও’ বলে হুমকি দেয়। তারপরেই তারা জোরপূর্বক আক্রমণ চালায়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির ছবি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই হামলাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে।
তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে মানসিকভাবে তিনি গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। চিকিৎসকরা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাঁর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পুলিশ তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে এবং ফরেনসিক রিপোর্টের জন্যও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ব্রিটেনের ভারতীয় ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিখ ফেডারেশন ইউকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলা শুধু নারীর উপর সহিংসতা নয়, বরং বর্ণবিদ্বেষের পুরনো মানসিকতার এক জঘন্য প্রকাশ। তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাদের কাছে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বা কোনো প্রমাণ থাকতে পারে, তারা যেন অবিলম্বে পুলিশ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে, অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।
