ওঙ্কার ডেস্ক: ওমান উপকূলের কাছে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি শুধু বর্তমান পরিস্থিতিকেই আলোচনায় আনেনি, বরং কয়েক দশক আগে মার্কিন সামরিক অভিযানে ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণহানির এক পুরনো স্মৃতিকেও সামনে এনে দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওমানের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে যান। পরবর্তী অনুসন্ধানে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। নিহতরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ছিলেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর অনেকেই ফিরে তাকাচ্ছেন ১৯৮৮ সালের ৩ জুলাইয়ের দিকে। সেদিন পারস্য উপসাগরের আকাশে এক ভয়াবহ ভুলের কারণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৯০ জন নিরীহ মানুষ। ইরান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে ভুলবশত যুদ্ধবিমান বলে মনে করে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিমানটি। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নারী, শিশু ও বিভিন্ন দেশের নাগরিক। সেই তালিকায় অন্তত ১০ জন ভারতীয়ও ছিলেন। আন্তর্জাতিক স্তরে ঘটনাটি তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল এবং মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
বর্তমান ঘটনাকে ঘিরেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজকের বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার আবহে সাধারণ নাবিক, জাহাজকর্মী কিংবা যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
ভারতের তরফে নিহত নাবিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।