ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়া অবস্থান ক্রমশ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করছে এবং সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসছে ভয়াবহ দমননীতি। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে উঠে আসা বর্ণনায় বলা হচ্ছে, রাস্তায় নামলেই গুলির মুখে পড়তে হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। কোথাও কোথাও সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালগুলিতে জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে এবং বহু আহতকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কিছু এলাকায় মৃতদেহ হাসপাতালের বাইরে পড়ে থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধুমাত্র গুলি নয়, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখাতে ও আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে।
এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের ভিতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য বাইরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের ছবি, ভিডিও বা প্রত্যক্ষ বিবরণ আদান-প্রদানেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এই তথ্য বিচ্ছিন্নতাই সরকারের দমননীতিকে আরও আড়াল করার চেষ্টা।
বিক্ষোভের সূত্রপাত মূলত মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অবনতিকে কেন্দ্র করে হলেও ধীরে ধীরে তা সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় নামা মানুষের মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং সরকারের নীতিই এই অবস্থার জন্য দায়ী।
সরকারি পক্ষ থেকে অবশ্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির প্ররোচনার অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ইরানের রাস্তায় তাই আতঙ্ক, ক্ষোভ এবং অনিশ্চয়তার আবহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
