ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের স্যেদ আব্বাস আরাঘচি ভারতের বিদেশমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে এই কথোপকথনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, আলোচনায় মূলত ইরান ঘিরে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন উঠে আসে।
একদিকে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সামরিক তৎপরতা এই দুইয়ের মাঝেই ভারত-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। ভারতের বিদেশমন্ত্রীও পরিস্থিতির উপর গভীর নজর রাখার কথা জানান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কাতারে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও সামরিক সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমেরিকা। যদিও ওয়াশিংটনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ইরানে পরিস্থিতির অবনতি হতেই দেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলোন বজায় রাখার দাবী জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর এতেই বেশ আলোড়ন পরেছিল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে।
তবে, ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও বিদেশি শক্তি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব দেওয়া হবে। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ঘাঁটি খালি করার খবরে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং প্রয়োজন না হলে ওই অঞ্চলে ভ্রমণ এড়াতে বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়তা বাড়ানো হচ্ছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে যে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইরানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।