ওঙ্কার ডেস্ক: ইতিহাস থেকে গান্ধীর নাম নিশানা মুছে দিতে তৎপর বিজেপি। মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহার করা ‘হরিজন’ ও ‘গিরিজন’ শব্দ প্রশাসনিক নথিতে আর ব্যবহার করা যাবে না বলে ফরমান জারি করল হরিয়ানার বিজেপি সরকার। সম্প্রতি ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ মনরেগা থেকে গান্ধীর নাম মুছে দিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এবার সেই পথে হাঁটল নয়াবব সিং সাইনির প্রশাসন।
মঙ্গলবার হরিয়ানার মুখ্যসচিবের তরফে নির্দেশিকা জারি করে এই দুই শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দলিত বা তফসিলি জাতি বোঝাতে হরিজন এবং তফসিলি উপজাতি বোঝাতে গিরিজন শব্দদুটি আর ব্যবহার করা যাবে না প্রশাসনিক নথিতে। বিজেপি শাসিত হরিয়ানা সরকারের যুক্তি, সংবিধানে এসসি-এসটিদের চিহ্নিত করতে ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়নি। তাই প্রশাসনিক নথি, চিঠি কিংবা বিজ্ঞপ্তিতে ওই শব্দগুলির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ইতিহাস অনুযায়ী, মহাত্মা গান্ধী ‘হরিজন’ শব্দটি ব্যবহার করতেন মূলত দলিতদের বোঝাতে। এই শব্দের অর্থ, ঈশ্বরের সন্তান। সমাজে যে ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে বিভেদ ছিল তা দূর করতে ‘হরিজন’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। শুধু তাই নয় ১৯৩৩ সালে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন গান্ধী। যার নাম দেন তিনি ‘হরিজন’। আর ‘গিরিজন’ শব্দটি ব্যবহার করতেন তফসিলি উপজাতিদের বোঝাতে। উত্তর ভারতে পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘গিরিজন’ বলা হয়। যদিও বাবাসাহেব আম্বেদকর ওই শব্দ দুটি ব্যবহার করেননি সংবিধানে।