ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আমেরিকার উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল ইরান। স্পষ্ট ভাষায় তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে বা স্বার্থে কোনও ধরনের সামরিক হামলা হলে তার জবাব পাল্টা আঘাতেই দেওয়া হবে। ইরানের দাবি, আমেরিকা যদি আগ্রাসনের পথে হাঁটে, তা হলে শুধু প্রত্যাঘাতই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে তার প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, আমেরিকার যে কোনও সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখা হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান নিজেদের রক্ষায় সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করতে পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই প্রত্যাঘাতের আওতায় অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের স্বার্থও পড়তে পারে।
বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে মানবাধিকার ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক মন্তব্য এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত তেহরানের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। ইরানের বক্তব্য, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
ইরানি নেতৃত্ব আরও দাবি করেছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে আত্মরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। পশ্চিম এশিয়ায় আগে থেকেই চলতে থাকা সংঘাতের আবহে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হলে তার অভিঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিশ্ব রাজনীতিতে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক স্তরে সমাধানের পথ খোলা রাখার আহ্বান জানালেও, দুই দেশের অবস্থান যে ক্রমশ কঠোর হচ্ছে, তা স্পষ্ট। ইরানের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
