ওঙ্কার ডেস্ক: আরব দুনিয়ার সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি ছড়িয়ে পড়ল ভারতের কাছাকাছি সমুদ্রসীমায়। শ্রীলঙ্কার উপকূলের অদূরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় অন্তত ১০১ জন এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন ৭৮ জন। ঘটনায় গোটা অঞ্চলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটিতে একটি সাবমেরিন থেকে আঘাত হানা হয়। সমুদ্রের বুকে আচমকা বিস্ফোরণের পরই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত ডুবতে শুরু করে।
হামলার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। ডুবন্ত জাহাজ থেকে অন্তত ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।
ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার খুব কাছাকাছি ঘটায় কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত সামরিক হামলা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, চলমান ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
এর আগে, ওমান উপকূলে ‘এমকেডি ভিয়োম’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মানববিহীন ড্রোন হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ওই জাহাজটিতে প্রায় ৫৯,৪৬৩ মেট্রিক টন পণ্য বোঝাই ছিল। বিস্ফোরণের জেরে ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিকের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন ভারতীয়। বাকি সদস্যদের উদ্ধার করে ‘এমভি স্যান্ড’ নামে একটি পানামার বাণিজ্যিক জাহাজ।
এই ধারাবাহিক ঘটনাবলীর জেরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এদিকে নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান জারি রেখেছে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
