ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের তেল রফতানি ব্যাহত করতে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গত ২৬ এপ্রিল, নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলখনিতে ‘বিস্ফোরণ’ হবে বলে। এ বিষয়ে এ বার ওয়াশিংটনকে কটাক্ষ করল তেহরান। সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত ইরানের কোনো তেলখনিতে ‘বিস্ফোরণ’ হয়নি।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায়, গালিবাফ উপহাস করে বলেন, ‘৩ দিন হয়ে গেল, কোনো তেলখনিতে বিস্ফোরণ হয়নি। আমরা এটিকে ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারি এবং এখানে তেলখনিটির লাইভ করতে পারি।’ অর্থনৈতিক অবরোধ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতো শীর্ষ মার্কিন কর্তাদের ‘ভুয়া পরামর্শকে’ দায়ী করেন ৬৪ বছর বয়সী প্রাক্তন সামরিক কর্তা। তাঁর দাবি, এর ফলেই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয় তাঁর সতর্কবার্তা আগামী দিনে তা ব্যারেল প্রতি ১৪০ ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে।
গালিবাফ লিখেছেন, ‘বেসেন্টের মতো মানুষের কাছ থেকে মার্কিন প্রশাসন এই ধরনের ভুয়ো পরামর্শই পায়, যারা অবরোধের তত্ত্বকেও সমর্থন করে তেলের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ: ১৪০। সমস্যাটা তত্ত্বে নয়, মানসিকতায়।’ উল্লেখ্য, আইআরজিসি বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কমান্ডার গালিবাফ। তিনি তেহরানের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (২০০৫-২০১৭)। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ তাঁর পড়াশোনা রয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তিনি গভীরভাবে জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক বিষয় নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনা চলছে, তিনি সেই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।