ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, আকাশে ভেসে ওঠা একটি হেলিকপ্টার থেকে ঝুলন্ত দড়ি ধরে কয়েকজন মানুষ প্রাণপণে উপরে ওঠার চেষ্টা করছেন। দাবি করা হচ্ছে, এঁরা নেপালের এক মন্ত্রীর পরিবারের সদস্য, যাঁরা প্রবল বিক্ষোভ থেকে পালানোর জন্য এই মরিয়া চেষ্টা করেছেন। যদিও সরকারি সূত্র এখনই এই ভিডিওর সত্যতা স্বীকার করেনি, তবুও ভিডিওটি ঘিরে নেপালজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে উঠেছে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই কাঠমান্ডুতে একের পর এক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। বহু মানুষ আহত হয়েছেন, নিহতের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে বলে খবর। প্রশাসন ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে রাজধানীতে একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। তাতেও ক্ষোভ থামেনি, বরং সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আরও বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন সরকারের প্রাক্তন সদস্য ও তাঁদের পরিবারের দিকেও ঘনীভূত হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা আদৌ মন্ত্রীর পরিবারের সদস্য কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নেতারা নিজেরাই পালানোর ছক কষছেন।
ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই নিয়ে প্রশাসন আপাতত নীরব থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থামেনি। ফেসবুক, টুইটার ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। জনমত ক্রমেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা যে আরও ঘনীভূত হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
