ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ইরাককে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যদি ইরাকের নেতৃত্বে আবারও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির প্রত্যাবর্তন ঘটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতি সব ধরনের সহায়তা ও সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান ইতিমধ্যেই ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, মালিকির আগের শাসনামলে ইরাক দারিদ্র্য, অরাজকতা এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। তার মতে, সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতদুষ্ট নীতির ফলেই দেশের স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে যায়। তাই একই নেতৃত্বকে আবার ক্ষমতায় আনা হলে ইরাকের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া ইরাকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বর্তমানে ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোটভিত্তিক সমীকরণে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বৃহত্তম শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তরফে মালিকির নাম সামনে আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মালিকির বিরুদ্ধে অতীতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়ানো এবং বিরোধীদের উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছিল। তার শাসনামলে দেশের বিভিন্ন অংশে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে নিরাপত্তা সংকট ও জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করে বলে অনেকের মত।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি কেবল কূটনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইরাকের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে সামরিক প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাস দমন, আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই সমর্থন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে ইরাকের প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রভাব বলয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। মালিকিকে অনেকেই ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখেন। ফলে তার প্রত্যাবর্তন হলে ইরানে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে, যা ওয়াশিংটনের কাছে উদ্বেগের কারণ। সেই কারণেই ট্রাম্প আগেভাগেই কঠোর বার্তা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
