ওঙ্কার ডেস্ক: জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ২০২৩ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেই সফরের নানা স্মৃতি এখনও তাঁর মনে উজ্জ্বল। সম্প্রতি তাঁর জীবনীভিত্তিক বই ‘জর্জিয়াজ ভিশন’ উঠে এসেছে ভারত সফরের এমনই এক বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বইটিতে মেলোনি উল্লেখ করেছেন, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর যে অভ্যর্থনা তিনি পেয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত আবেগঘন। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জুড়ে তাঁর ছবি-সহ স্বাগত জানিয়ে বড় বড় পোস্টার লাগানো হয়েছিল। শুধু সফরের শুরুতেই নয়, ভারত ছাড়ার সময়ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ‘ভারত সফরের জন্য ধন্যবাদ’ জানিয়ে পোস্টার দেখা যায়। বিদেশের মাটিতে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল বলে বইয়ে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেলোনি জানান, এই দৃশ্য দেখে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি রসিকতা করে তাঁকে বলেছিলেন, “আপনি যদি দিল্লি থেকে নির্বাচনে দাঁড়াতেন, তাহলে লাখ লাখ ভোটে জিতে যেতেন।” সেই মন্তব্যে উপস্থিত সকলেই হেসে ওঠেন। মেলোনিও বইয়ে এই ঘটনার কথা হাস্যরসের সঙ্গেই তুলে ধরেছেন।
ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জর্জিয়া মেলোনির একাধিক বৈঠক হয়। দুই দেশের কৌশলগত, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেই সময় থেকেই মোদি ও মেলোনির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের একসঙ্গে তোলা সেলফি এবং বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ‘মেলোডি’ নামে একটি শব্দবন্ধ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যা ‘মেলোনি’ এবং ‘মোদি’ এই দুই নামের সংমিশ্রণ। বহু নেটিজেন এই শব্দ ব্যবহার করে নানা ধরনের পোস্ট ও মিম তৈরি করেন।
সম্প্রতি আবারও দুই রাষ্ট্রনেতার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া উপহার হিসেবে চকোলেটের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মেলোনি হাসতে হাসতে বলেন, “মেলোডি।” তাঁর এই মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিতে যোগ দেন। মুহূর্তটি আবারও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নতুন করে ‘মেলোডি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতার এই ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য শুধু সামাজিক মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা পায়নি, বরং ভারত ও ইতালির কূটনৈতিক সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সবুজ জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।