ওঙ্কার ডেস্ক: মেক্সিকোর অন্যতম কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ নামে বেশি পরিচিত, মেক্সিকান সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। পশ্চিম মেক্সিকোর তাপাল্পা শহরের কাছে এই অভিযান চালায় মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। ঘটনার পরই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্টেল সমর্থকদের তাণ্ডবে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ, গাড়িতে আগুন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর মিলেছে।
এল মেনচো ছিলেন কুখ্যাত মাদক চক্র জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল বা সিজেএনজি-র প্রধান। এই সংগঠনটি গত এক দশকে মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী ও সহিংস কার্টেলগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে। মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ফেন্টানিল ও মেথামফেটামিন পাচারের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মাদক বাজারে বিশাল প্রভাব বিস্তার করে।
মেক্সিকোর পাশাপাশি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এল মেনচো ছিলেন অত্যন্ত ওয়ান্টেড অপরাধী। মার্কিন প্রশাসন তার মাথার দাম ১৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং একাধিকবার নিরাপত্তা বাহিনীর জাল এড়িয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর নেতৃত্বে সিজেএনজি দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টেলগুলির বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার জেরে মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রদেশে সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সেনা সূত্রে দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ব্যাপক গোলাগুলি চলে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারি তরফে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহের পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জালিস্কো প্রদেশের একাধিক এলাকায় অশান্তি শুরু হয়। কার্টেলের সদস্য ও সমর্থকরা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কয়েকটি মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু সিজেএনজি-র নেতৃত্বে সাময়িক শূন্যতা তৈরি করতে পারে। তবে এর ফলে কার্টেলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই বাড়তে পারে এবং সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল ঘটনাটির দিকে কড়া নজর রাখছে, কারণ এই কার্টেলের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বহু দেশে বিস্তৃত।
