ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পেল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা। শনিবার অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন মোদী। দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
বৈঠকে ভারত ও নিউজিল্যান্ড ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং নিয়মভিত্তিক সামুদ্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়। সেই লক্ষ্যেই সমুদ্র নিরাপত্তা, তথ্য আদানপ্রদান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখা এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্য। গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি সংসদীয় অনুমোদনের পর কার্যকর হবে। চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের বস্ত্রশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, গয়না-সহ শ্রমনির্ভর বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র বিশেষভাবে লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকের পর ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।