ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারক্ষেত্রে তাঁর সুনাম রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে পরিচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার। শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এ বছরের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় ছিল একাধিক ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। আলোচনায় উঠে এসেছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা উদ্ধারকারী দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আদালতের নাম। এ ছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্ভাব্য প্রাপকদের নামের তালিকায় জল্পনায় ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে এই পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। একাধিকবার তিনি দাবি করেছেন, এই সম্মান তাঁর প্রাপ্য।
নরওয়ের নোবেল কমিটির কাছে এ বছর মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন জমা পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ছিল বিভিন্ন সংগঠন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘস্থায়ী অবদান, আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং এই লক্ষ্য পূরণে প্রতিষ্ঠানগুলির নীরব ভূমিকার মতো বিষয়কে সাধারণত গুরুত্ব দেয় নোবেল কমিটি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে তাঁর আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। গণতন্ত্রের অন্ধকার সময়ে তার শিখা জ্বালিয়ে রাখার লড়াইয়ের জন্য তিনি স্বীকৃতি পান। পরে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতাচ্যুত করার পর মাচাদো নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। তবে সেটি ছিল মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ। নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরস্কারের সম্মান বা খেতাব অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।