ওঙ্কার ডেস্ক: গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান। সঙ্গে কাতারও ছিল। যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা নিলেও অস্বস্তি যাচ্ছে না ইসলামাবাদের। পাকিস্তানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিস্তারিত প্রকাশে কেন দেরি হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট জানালেন ট্রাম্পের ডেপুটি। ভ্যান্সের দাবি, বিলম্ব হওয়ার নেপথ্যে পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অভাব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৫ জুন শান্তি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন, তবে সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ হয়েছিল তার দুদিন পর। এক পডকাস্টে কথা বলার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে ওয়াশিংটন সময় নিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘আমরা আসলে এটি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এখানে মতপার্থক্যের কারণ হলো—পাকিস্তান ও কাতারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ (যেখানে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে)-এর মতো কোনো বিধান বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি সেভাবে নেই।’
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, সরকার এমন কোনও আইন প্রণয়ন করতে পারে না যা বাক-স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে। পাকিস্তানে এ ধরনের কোনও সাংবিধানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ভ্যান্সের মন্তব্য পাকিস্তানে বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চরম অবনতির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ‘বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচক’-এ ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।